ঝাড়খণ্ড আন্দোলনে পুলিস ও আধা-সামরিক বাহিনীর গুলিতে যত ঝাড়খণ্ডীদের মৃত্যু হয়েছে তত মনে হয় আর কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে হয়নি| ঝাড়খণ্ড পার্টি থেকে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা – প্রতিটি ঝাড়খণ্ডী দলের আন্দোলন থামাতে নির্বিচারে গুলি চালাত পুলিস বা আধা-সামরিক বাহিনী আর তাতে মারা যেত ঝাড়খণ্ডীরা|
১৯৯৪ সালের ২২ শে সেপ্টেম্বর, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দলের পুরুলিয়া জেলা কমিটির ডাকে তৎকালীন জেলা শাসকের নিকট বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন কয়েক হাজার ঝাড়খণ্ডীরা| কাঁসাই ব্রিজের দিক থেকে হাজার হাজার ঝাড়খণ্ডীরা শহরের দিকে মিছিল সহকারে এগোতে থাকে| পুলিশ মিছিলকে আটকানোর চেষ্টা করে কিন্তু মিছিল ঝড়ের গতিতে চলতে থাকে| পুলিশ মিছিল আটক করতে ব্যর্থ হলে বিনা প্ররোচনায় মিছিলের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়| পুলিসের গুলিতে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দলের চারজন কর্মী মারা যান – 1)কমলকান্ত মাহাত, 2) মহেশ্বর হাঁসদা, 3) নবকিশোর মাহাত ও 4) ধর্মদাস মাহাত|
এই দিনটিকে স্মরন করে প্রতি বছর শহীদ দিবস পালন করে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দলের পুরুলিয়া জেলা কমিটি| আজও গুলিচালনায় দোষী পুলিসকর্মীরা শাস্তি পায়নি| তাই প্রতি বছর শহীদ দিবস পালনের সাথে সাথে দোষী পুলিসকর্মীদের শাস্তির দাবীতে প্রতি বছর এই দিনে পুরুলিয়া জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেয় ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দলের পুরুলিয়া জেলা কমিটি| পুলিসের গুলিতে মৃত ঝাড়খণ্ডীরা আজও ৩০ বছর ধরে সুবিচার পায়নি|
ঝাড়খণ্ড পার্টি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি এর পক্ষ থেকে শহীদ ঝাড়খণ্ডীদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই ও যাদের গুলিতে বা যাদের আদেশে ঝাড়খণ্ডীরা মারা গিয়েছেন সঠিক বিচার সাপেক্ষে তাদের কঠোর শাস্তির দাবী জানাই|
বীর শহীদ দের রক্ত, হবে নাকো ব্যর্থ। জয় ঝাড়খণ্ড।